এনবিআরের প্রতিবেদন

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২০%

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতায় গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মন্দা ভাব দেখা গিয়েছিল রাজস্ব আদায়ে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতায় গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মন্দা ভাব দেখা গিয়েছিল রাজস্ব আদায়ে। তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মন্দা ভাব কিছুটা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। এ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক তথা জুলাই-সেপ্টেম্বরে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আহরণ বেড়েছে ২০ শতাংশ। এটি রাজস্ব আহরণের ইতিহাসে যেকোনো অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ সংগ্রহ বলেও দাবি করেছে এনবিআর। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আহরণকৃত রাজস্বের পরিমাণ ছিল ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ২০ দশমিক ২১ শতাংশ। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে এ আয় ছিল ৭৬ হাজার ৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৬৮ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আহরণকৃত রাজস্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে স্থানীয় পর্যায়ের মূসক খাত থেকে। এ সময়ে খাতটিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ খাতের রাজস্ব আয় ছিল ২৬ হাজার ৮৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২৮ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে হয়েছিল ২৪ হাজার ৫৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ দুই খাত থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৮০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আমদানি ও রফতানি খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ২৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৬২৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

রাজস্ব আহরণে এ প্রবৃদ্ধি নিজেদের দক্ষ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল বলে দাবি করেছে এনবিআর। ভবিষ্যতে কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও সঠিকভাবে আদায়, কর ফাঁকি রোধকল্পে এবং ফাঁকি দেয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা রাজস্ব প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। এবার রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরো ডিজিটাল ও সহজ করেছেন তারা। করদাতাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা ও কর পরিশোধের সুযোগ বাড়ানোয় অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে কর দিচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা স্থিতি ফিরেছে। এসব কিছুই কর আয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

আরও